বৃহস্পতিবার | ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিজের ওপর হামলাকারীকে ক্ষমা করে দিলেন মুফতি ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের ওপর হামলার ঘটনায় আটক স্বপন চন্দ্র দাসকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। মুফতি ফয়জুল করীমের অনুরোধেই মঙ্গলবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে পরিবারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর বান্দ রোডের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা কলোনির পার্শ্ববর্তী খালপাড়ে নিজের বাসা থেকে স্বপন চন্দ্র দাসকে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আটক করে পুলিশ। তার আগে ওই এলাকার নিজ বাসায় তাকে দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ করে রাখে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় মুসল্লিরা।

ইসলামী আন্দোলন বরিশাল জেলার প্রচার সম্পাদক এইচএম সানাউল্লাহ বলেন, দলের কর্মী-সমর্থকরা হামলাকারী স্বপনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। তবে সিনিয়র নায়েব আমিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, হামলাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এজন্য দল থেকে আটককৃতর বিরুদ্ধে আমরা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম কমিশনার স্যারকে ফোন করেছিলেন। তিনি স্যারকে জানিয়েছেন, স্বপন চন্দ্র দাসের ওপর তার কোনো রাগ-ক্ষোভ নেই। তিনি স্বপনকে সসম্মানে তার পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেছেন। এজন্য রাতেই তাকে তার পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন নগরীর নবগ্রাম রোড চৌমাথা এলাকায় ছাবেরা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রবেশ করতে চাইলে মেয়র প্রার্থী ফয়জুল করীমকে বাধা দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাতের অনুসারীরা। একপর্যায় তারা হামলা করে ফয়জুল করীমের ওপর। এতে রক্তাক্তা হন তিনি। সেই হামলার মূলহোতা ছিলেন স্বপন।

এদিকে গত পাঁচ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতনের পর বরিশাল ছাড়েন খোকন সেরনিয়াবাত অনুসারী যুবলীগ কর্মী স্বপন চন্দ্র দাস। ঢাকায় একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছে। সোমবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে গোপনে বরিশালে আসেন তিনি। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পূর্বে তাকে তার নিজ বাসায় ঘেরাও করে ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Print