ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদীর তীর ভরাট করে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক জেটি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহজাহান সিরাজের বিরুদ্ধে।
এ জেটি থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ভারী পণ্য নিয়ে আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্র (এপিএসসিএল) সংলগ্ন সড়ক দিয়ে চলাচল করে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশ ঘেঁষে নদীর তীর ভরাট করে অবৈধ বাণিজ্যিক জেটি নির্মাণের কারণে ৬‘শ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ২টি ইউনিট বন্ধ হওয়ার আশংকাসহ নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি বালি দিয়ে নদী ভরাট করায় পানি প্রবাহের কারণে নদীর দুই পাড়ে ভাঙন সৃষ্টির আশংকা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক বরাবর ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ আশুগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে। কিন্তু গত ১৫ দিনেও এই জেটি অপসারণে স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহজাহান সিরাজের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জনের একটি প্রভাবশালী মহল আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী পাশে মেঘনা নদীর তীর বালি দিয়ে ভরাট করে একটি জেটি নির্মাণ করে। বিএনপি নেতা হাজী শাহজাহান আশুগঞ্জ-ভৈরব নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন চ্যানেল-১-এর ইজারাদার। বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএ’র কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও রহস্যজনকভাবে তা এড়িয়ে যায় সংস্থাটি। গত ১৮ নভেম্বর জেলা মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় নদী দখল করে জেটি নির্মাণের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে। এরপর বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ তৎপরতা শুরু হলেও অজানা কারণে পরে তা থমকে যায়।
এরপর গত ১ ডিসেম্বর পাওয়ার স্টেশন কোম্পানীর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরবার লিখিত অভিযোগ জানান।
এ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এপিএসসিএল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি স্থানীয় কিছু সংখ্যক প্রভাবশালী লোক মেঘনা নদীর বেশ কিছু অংশ ভরাট করে জেটি নির্মাণ করেছেন। জেটি থেকে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশ দিয়ে বালি দিয়ে নির্মিত সড়কের নিচে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টের কুলিং ওয়াটার পাইপ, ফায়ার সার্ভিস ওয়াটার পাইপ, ড্রিংকিং ওয়াটার পাইপ এবং ২২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্ল্যান্টের (সিসিপিপি) ওয়াটার আউটফল পাইপ লাইন রয়েছে। বালুর রাস্তার উপর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করায় রাস্তার নিচে থাকা সকল পাইপ লাইন ক্ষতিগ্রস্তু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাইপ লাইন গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই দুটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এদিকে বিআইডব্লিটিএ’র আশুগঞ্জ-ভৈরব নদী বন্দর দপ্তরের উপপরিচালক মো. মহিউদ্দীন খান তড়িঘড়ি করে গত ৩ ডিসেম্বর জেটি দিয়ে পণ্য উঠানামা বন্ধ, ক্রেন অপসারণসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আশুগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন এবং তিন দিনের মধ্যে এপিএসসিএলের উত্তর-পশ্চিম পাশে মেঘনার তীরে নির্মিত জেটিতে নৌযান ভিড়ানোসহ মালামাল উঠানামা বন্ধ করতে ইজারাদার ও বিএনপি নেতা হাজী মো. শাহজাহানকে চিঠি দেন। চিঠির ১৫ দিনেও জেটি অপসারণে ইজারাদার কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়নি।
আশুগঞ্জ থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, আশুগঞ্জ-ভৈরব নদী বন্দরের নিয়ন্ত্রণাধীন চ্যানেল-১ সোনারামপুর এলাকায় শুল্ক আদায়ে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জন্য ইজারা পান উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহজাহান সিরাজ। গত ৩০ জুন বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ঘাটের সীমানায় তীর ভূমির পরিবর্তন কিংবা নতুন পয়েন্ট তৈরি এবং ঘাট সীমানার মধ্যে স্থায়ী বা অস্থায়ী অবকাঠামো তৈরির সুযোগ নেই।
এ ব্যাপারে ইজারাদার ও বিএনপি নেতা মো. শাহজাহান সিরাজ বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ঘাটটি আমার নামে ইজারা দিয়েছে। জনগণের স্বার্থে জায়গাটি আমরা সংস্কার করেছি। নীতিমালার বর্হিভূত কিছু করিনি।
আশুগঞ্জ-ভৈরব বাজার নদী বন্দরের উপপরিচালক মো. মহিউদ্দিন খান বলেন, জায়গাটি ইজারা দেওয়া হয়নি। কেপিআই প্রতিষ্ঠানের পাশে এই ধরণের স্থাপনা হতে পারে না। ঘাট ও জেটি অপসারণের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। এটি ইজারা চুক্তির শর্তের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, বিআইডব্লিটিএ’র আশুগঞ্জ-ভৈরব বাজার নদী বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হয়েছে। তারা বলেছে জায়গাটি ইজারা দেওয়া হয়নি। জেটিটি দ্রুত অপসারণের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।







