শনিবার | ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কঙ্গোর বৃহত্তম শহরের নিয়ন্ত্রণ নিল এম২৩ বিদ্রোহীরা

মধ্য-আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআরসি) পূর্বাঞ্চলের বৃহত্তম শহর গোমার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে রুয়ান্ডা-সমর্থিত দেশটির জাতিগত তুতসি নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩। সোমবার বিদ্রোহীরা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সময় সেখানে ব্যাপক গোলাগুলি ও সংঘর্ষ হয়েছে।

সংঘাত থেকে প্রাণে বাঁচতে হাজার হাজার মানুষ শহর ছেড়ে পালিয়েছেন এবং বিভিন্ন কারাগারে হামলার পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় কয়েক হাজার কারাবন্দি পালিয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কঙ্গোতে অভিযান বন্ধ করতে এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতি আহ্বান জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গোমার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে গোষ্ঠীটি। সোমবার রুয়ান্ডার সৈন্যদের সঙ্গে সীমান্তে কঙ্গোর সৈন্য গোলাগুলির ঘটনার মাঝেই শহরটি দখলের দাবি করেছে এম২৩।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কঙ্গোর সরকারের মুখপাত্র প্যাট্রিক মুয়ায়া গোমায় রুয়ান্ডার সেনাবাহিনীর উপস্থিতির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, সরকার হত্যাযজ্ঞ ও মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে কাজ করে চলেছে। বাসিন্দাদের বাড়িঘরে অবস্থান এবং ভাঙচুর ও লুটপাট করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সরকার।

রুয়ান্ডা কর্তৃপক্ষ কঙ্গোতে হত্যাযজ্ঞের উদ্দেশ্যে সার্বভৌম সীমান্ত লঙ্ঘন করে গোমায় নিজ সৈন্য পাঠিয়েছে বলে দাবি করেছে কঙ্গোর সরকার। সোমবার এম২৩ গোষ্ঠীর যোদ্ধারা গোমা শহর দখলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এম২৩ গোষ্ঠীর এমন পদক্ষেপকে কঙ্গোর সরকার রুয়ান্ডার ‘‘যুদ্ধ ঘোষণা’’ বলে অভিহিত করেছিল। জাতিসংঘ বলেছে, এই বন্দিদশা গোমার ২০ লাখ বাসিন্দার মাঝে ‘‘গণ-আতঙ্ক’’ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় দুই প্রত্যক্ষদর্শী ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, বিদ্রোহীরা গোমার কেন্দ্রে প্রবেশ করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন ছোট একটি শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ভারী অস্ত্রধারী ব্যক্তিরা রাস্তায় হাঁটছেন।

এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আক্রমণ কঙ্গোর খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলের গোমা শহরের হাজার হাজার মানুষকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। কয়েক দশকের পুরোনো এক বিরোধ আঞ্চলিক যুদ্ধ উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 কী ঘটছে কঙ্গোতে?

দীর্ঘদিন ধরে রুয়ান্ডা-সমর্থিত বিদ্রোহীদের সঙ্গে কঙ্গোর আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সংঘাত চলছে। এই গোষ্ঠীর সদস্যরা একের পর এক শহরে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। জাতিগত তুতসি-নেতৃত্বাধীন এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর যোদ্ধারা পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোমার বেশিরভাগ অংশ দখলে নিয়েছে।

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোমা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সোনা, টিন এবং কোল্টানের মতো তুমুল চাহিদার ধাতু ও খনিজ সরবরাহকারী খনির শহরগুলোর সঙ্গে শহরটির যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে।

 কঙ্গোতে কতদিন ধরে সংঘাত চলছে?

১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডার গণহত্যার পর থেকে দেশটির খনিজ সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংঘাত চলছে। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির বিশাল খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমতার জন্য কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে।

কঙ্গোর এই অস্থিতিশীলতা প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে। এমনকি এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে ১৯৯০-এর দশকে ‘‘আফ্রিকার বিশ্বযুদ্ধ’’ হিসেবে অভিহিত দুটি সংঘাতে লাখ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Print