রবিবার | ২৫শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টিউলিপ-জয়সহ শেখ পরিবারের ৭ সদস্যদের ব্যাংক হিসাব তলব

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানাসহ তাঁদের পরিবারের সব সদস্যের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করা করেছে। শেখ হাসিনার পাশাপাশি তাঁর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন (পুতুল) ও ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদের (জয়) ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক(ববি), দুই মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকের হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) চলতি সপ্তাহে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়েছে। লেনদেন তলব করার এ নির্দেশের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালাসংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে বলে বিএফআইইউর চিঠিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে তলব করা ব্যক্তির নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র–সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা কোনো ধরনের আর্থিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে এই সাতজনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি থেকে নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক বর্তমানে একজন কনিষ্ঠ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।

সম্প্রতি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে টিউলিপ সিদ্দিককে একটি ফ্ল্যাট দিয়েছিলেন আবদুল মোতালিফ নামের একজন আবাসন ব্যবসায়ী। তবে টিউলিপ সিদ্দিককে ওই ফ্ল্যাটের বিনিময়ে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হয়নি। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল ওই ব্যবসায়ীর। বিনা মূল্যে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের তথ্য পাওয়া গেছে যুক্তরাজ্যের ভূমি নিবন্ধনসংক্রান্ত নথিপত্রে।

এ ছাড়া সানডে টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, টিউলিপ সিদ্দিক উত্তর লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড এলাকায় এমন একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন, যেটি তাঁর পরিবারকে দিয়েছেন তাঁর খালা শেখ হাসিনার এক মিত্র। হ্যাম্পস্টেডের ফিঞ্চলে রোডের এই ফ্ল্যাট টিউলিপের বোন আজমিনাকে বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে টিউলিপ সিদ্দিক নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাডভাইজার অব মিনিস্ট্রিয়াল স্ট্যান্ডার্ডস) লাউরি ম্যাগনাসের কাছে চিঠি লিখেছেন।

Facebook
Twitter
LinkedIn
Print