বৃহস্পতিবার | ১৬ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় নেত্রকোণায় আনন্দের জোয়ার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল মহান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় জেলাজুড়ে আনন্দের জোয়ার বইছে। তার এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রাপ্তিতে জেলার সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক কর্মী এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা শহরের মানুষের মাঝে ব্যাপক উচ্ছাস ও উদ্দীপনা কাজ করছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, দুর্গাপুর-কলমাকান্দার মতো প্রান্তিক জনপদের একজন জনপ্রতিনিধির এমন উচ্চাসনে আসীন হওয়া জাতীয় রাজনীতিতে নেত্রকোণার গুরুত্ব ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করেছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নেত্রকোণার সন্তান জি এম ফখরুল হাসান বাসসকে জানান, “ডেপুটি স্পিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ। এর আগে আমাদের জেলা থেকে কেউ এ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বলে আমার জানা নেই। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের খবর। আমরা বিশ্বাস করি, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এই পদের জন্য যোগ্যতম ব্যক্তি ছিলেন এবং রাষ্ট্র তাঁর মেধার সঠিক মূল্যায়ন করেছে।”

রাজনৈতিক এ উচ্চাসনের পাশাপাশি সামাজিক অঙ্গনেও তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার বাসিন্দারা মনে করছেন, এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের সাথে তাঁর নিবিড় সম্পর্কই তাঁকে এই অর্জনে সাহায্য করেছে।

গণমাধ্যম কর্মী পল্লব চক্রবর্তী বাসসকে বলেন, “এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং নেত্রকোণার মানুষের জন্যও এক বিশাল প্রাপ্তি। আমার গ্রামের বাড়ি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় হওয়ায় খুব কাছ থেকে তাঁর মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ও কর্মনিষ্ঠা দেখার সুযোগ হয়েছে। তিনি অত্যন্ত স্বজনতুল্য ও প্রজ্ঞাবান একজন মানুষ। তাঁর অভিজ্ঞতা ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে জাতীয় সংসদের গণতান্ত্রিক চর্চা আরও সমৃদ্ধ হবে।”

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় শুধু রাজনৈতিক বলয় নয়, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মহলেও তাঁর এই অর্জন নিয়ে খুশির আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।

নেত্রকোণা সাহিত্য সমাজের সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার অলি উল্লাহ বাসসকে জানান, “ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আমরা প্রত্যাশা করি, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের স্বার্থে মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে তিনি দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।”

উল্লেখ্য, এর আগে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষা ও আইন পেশায় উজ্জ্বল ক্যারিয়ার এবং সুদীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা তাঁকে আজকের এই আসনে আসীন করেছে।

নেত্রকোণা সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. লালন মিয়া বাসসকে বলেন, “নেত্রকোণার কৃতি সন্তান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আজ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। পাহাড়, হাওর আর জনপদ থেকে উঠে আসা এই ব্যক্তিত্ব কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমাদের প্রত্যাশা, তিনি সংসদে প্রান্তিক মানুষের কথা বলবেন এবং নেত্রকোণাকে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ নগরীতে পরিণত করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।”

ব্যারিস্টার কায়সার কামালের পারিবারিক ঐতিহ্যও জনপ্রতিনিধিত্বের সাথে মিশে আছে। তাঁর বাবা প্রয়াত মোস্তফা কামাল মনছুর নব্বইয়ের দশকে কলমাকান্দা সদর ইউনিয়ন পরিষদের অত্যন্ত জনপ্রিয় চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর দাদা ও নানাও ছিলেন প্রথিতযশা জনপ্রতিনিধি।

শিক্ষাজীবনে কায়সার কামাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর লন্ডনে আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি (ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল) লাভ করেন। ১৯৮৮ সালে ছাত্ররাজনীতিতে তাঁর পদার্পণ এবং ১৯৯৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ভূমি প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উচ্ছ্বসিত জেলাবাসীর প্রত্যাশা, ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি নেত্রকোণার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে অতীতের মতো আরও বলিষ্ঠ ও যুগান্তকারী অবদান রাখবেন। -বাসস

Facebook
Twitter
LinkedIn
Print